গীতা সারাংশ বাংলা

গীতা সারাংশ বাংলা


যা হয়েছে তা ভালই হয়েছে,
যা হচ্ছে তা ভালই হচ্ছে,
যা হবে তাও ভালই হবে।
তোমার কি হারিয়েছে, যে তুমি কাঁদছ ?
তুমি কি নিয়ে এসেছিলে, যা তুমি হারিয়েছ?
তুমি কি সৃষ্টি করেছ, যা নষ্ট হয়ে গেছে?
তুমি যা নিয়েছ, এখান থেকেই নিয়েছ।
যা দিয়েছ এখানেই দিয়েছ।
তোমার আজ যা আছে,
কাল তা অন্যকারো ছিল,
পরশু সেটা অন্যকারো হয়ে যাবে।
পরিবর্তনই সংসার এর নিয়ম।।

এই লেখা গুলো হিন্দু শাস্ত্রের গীতা থেকে নেওয়া। এটা হলো গীতার সারাংশ। যে শাস্ত্রের ই হউক না কেন লেখা গুলো আমার ভালো লাগে তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।

কখনো কোন কারণে যদি কারো মন খুব খারাপ থাকে তবে এই কথা গুলো কয়েক বার পড়ে দেখতে পারেন। আশা করি মন ভাল হয়ে যাবে। এটা আমার জীবনে বাস্তব পরীক্ষিত।

হিন্দুধর্মালম্বীদের মুর্তি পূজা নিয়ে স্বামী বিবেকানন্দ যা বললেন

হিন্দুধর্মালম্বীদের মুর্তি পূজা নিয়ে স্বামী বিবেকানন্দ যা বললেন

 


বহু কাল আগে এক রাজা স্বামী বিবেকানন্দ এর কাছে জিজ্ঞেস করলেন আপনারা কেন মূর্তি পূজা করেন ? আমি বুঝি না পুতুলের মধ্যে আপনারা কি এমন দেখেন যে পূজা করতে হবে?
স্বামী বিবেকানন্দ তখন বুঝতে পারেন যে রাজা তাকে অপমান করার চেষ্টা করছে । তিনি বুঝলেন তর্কে গেলে চলবে না । তাই তিনি যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করলেন ।
স্বামী বিবেকানন্দ তখন রাজার দেওয়াল থেকে তার স্বর্গীয় পিতার ছবি নিয়ে এসে রাজাকে বললেন এই ছবিতে থুথু নিক্ষেপ করতে। তখন রাজা রেগে গিয়ে বললেন এটা আমার বাবার ছবি। আমি কিভাবে এই ছবির উপর থুথু নিক্ষেপ করবো?
তখন স্বামীজী বললেন কেন পারবেন না,এটা তো নিছকই একটা কাগজের তৈরি ছবি।
স্বামী বিবেকানন্দ তখন বললেন আপনি আপনার স্বর্গীয় পিতার ছবিতে থুথু নিক্ষেপ করতে পারেন নি। কারণ আপনি বিশ্বাস করেন এই ছবির মধ্যে আপনার পিতা অবস্থান করেন । আপনি তাকে ভালোবাসেন আর সম্মান প্রদর্শন করেন তাই তার ছবিতে থুথু নিক্ষেপ করতে পারেন নি।
ঠিক তেমনি আমরা হিন্দুরা বিশ্বাস করি ঈশ্বর মূর্তি বা ছবির মধ্যে অবস্থান করে এবং আমাদের সকল দুঃখ গ্লানি মুছে দেন। ঈশ্বর নিরাকার,আমরা মূর্তির মাধ্যমে সাকার রূপের উপাসনা করি। এই মূর্তিতে আমরা ঈশ্বরকে উপলব্ধি করতে পারি যেমন ভাবে আপনি আপনার স্বর্গীয় পিতার ছবিতে আপনার পিতাকে উপলব্ধি করেন ।
রাজা তার ভুল বুঝতে পারে এবং হাত জোড় করে স্বামী বিবেকানন্দ এর কাছে তার ভুল শিকার করে।
সূত্রিঃ
এখানে ক্লিক করুন
#সংগৃহীত


ভাইফোঁটা মানে কি এবং এটা পালনের নিয়ম

ভাইফোঁটা মানে কি এবং এটা পালনের নিয়ম

 

bhai_poota

ভাইফোঁটা এই উৎসবের পোষাকি নাম ভ্রাতৃদ্বিতীয়া অনুষ্ঠান। কার্তিক মাসের শুক্লাদ্বিতীয়া তিথিতে (কালীপূজার দুই দিন পরে) এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পঞ্জিকা অনুযায়ী, এই উৎসব কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়দিন অনুষ্ঠিত হয়। মাঝেমধ্যে এটি শুক্লপক্ষের প্রথম দিনেও উদযাপিত হয়ে থাকে। পশ্চিম ভারতে এই উৎসব ভাইদুজ নামেও পরিচিত। সেখানে ভ্রাতৃদ্বিতীয়া পাঁচ-দিনব্যাপী দীপাবলী উৎসবের শেষদিন। আবার, মহারাষ্ট্র, গোয়া ও কর্ণাটকে ভাইফোঁটাকে বলে ভাইবিজ। নেপাল ও পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলে এই উৎসব পরিচিত ভাইটিকা নামে। সেখানে বিজয়াদশমীর পর এটিই সবচেয়ে বড় উৎসব। এই উৎসবের আরও একটি নাম হল যমদ্বিতীয়া। কথিত আছে, এই দিন মৃত্যুর দেবতা যমদূত তাঁর বোন যমুনার হাতে ফোঁটা নিয়েছিলেন। অন্য মতে, নরকাসুর নামে এক দৈত্যকে বধ করার পর যখন কৃষ্ণ তাঁর বোন সুভদ্রার কাছে আসেন, তখন সুভদ্রা তাঁর কপালে ফোঁটা দিয়ে তাঁকে মিষ্টি খেতে দেন। সেই থেকে ভাইফোঁটা উৎসবের প্রচলন হয়।
পশ্চিমবঙ্গে ভাইফোঁটা একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠান হলেও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে পালিত হয়। পশ্চিম ভারতের ভাইবিজ একটি বর্ণময় অনুষ্ঠান। সেখানে এই উপলক্ষে পারিবারিক সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়। মহারাষ্ট্রে মেয়েদের ভাইবিজ পালন অবশ্যকর্তব্য। এমনকি, যেসব মেয়েদের ভাই নেই, তাঁদেরও চন্দ্র দেবতাকে ভাই মনে করে ভাইবিজ পালন করতে হয়। এই রাজ্যে বাসুন্দি পুরী বা শ্রীখণ্ড পুরী নামে একটি বিশেষ খাবার ভাইবিজ অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করার রেওয়াজ আছে।

ভাইফোঁটার দিন বোনেরা তাদের ভাইদের কপালে চন্দনের ফোঁটা পরিয়ে দিয়ে ছড়া কেটে বলে-

ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা।
যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা।।
যমুনার হাতে ফোঁটা খেয়ে  যম হল অমর।
আমার হাতে ফোঁটা খেয়ে আমার ভাই হোক অমর।।


এইভাবে বোনেরা ভাইয়ের দীর্ঘায়ু কামনা করে। তারপর ভাইকে মিষ্টি খাওয়ায়।ভাই ও বোনকে কিছু উপহার বা টাকা দেয় অনেক  সময় এই ছড়াটি বিভিন্ন পরিবারের রীতিনীতিভেদে পরিবর্তিত হয়ে থাকে। অতঃপর, বোন তার ভাইএর মাথায় ধান এবং দূর্বা ঘাসের শীষ রাখে। এই সময় শঙ্খ্যবাজানো হয় এবং হিন্দু নারীরা উলুধ্বনি করেন। এরপর বোন তার ভাইকে আশীর্বাদ করে থাকে (যদি বোন তার ভাইয়ের তুলনায় বড় হয় অন্যথায় বোন ভাইকে প্রণাম করে আর ভাই বোনকে আশীর্বাদ করে থাকে)। তারপর বোন ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি দ্বারা ভাইকে মিষ্টিমুখ করায় এবং উপহার দিয়ে থাকে। ভাইও তার সাধ্যমত উক্ত বোনকে উপহার দিয়ে থাকে।

মহা শিবরাত্রি কি ও শিব পূজার নিয়ম

মহা শিবরাত্রি কি ও শিব পূজার নিয়ম

shiv-ratri

মহাশিব রাত্রি কি......? 
উত্তরঃ মহাশিবরাত্রি বা শিবরাত্রি হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিকট একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান। এই মহাশিবরাত্রি ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয়। মহাশিবরাত্রি হল হিন্দুধর্মের সর্বোচ্চ আরাধ্য দেব-আদি-দেব মহাদেব ‘শিবের মহা রাত্রি’। অন্ধকার আর অজ্ঞতা দূর করার জন্য এই ব্রত পালিত হয়। অগণিত ভক্ত এইদিন শিবলিঙ্গে গঙ্গাজল, দুধ, বেলপাতা, ফুল দিয়ে পূজা করে থাকে।


ব্যাখ্যা ও গুরুত্বঃ সব ব্রতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হল এই মহাশিবরাত্রি। ব্রতের আগের দিন ভক্তগণ নিরামিষ আহার করে। তার আগের দিন রাতে বিছানায় না শুয়ে মাটিতে শোয়া হয়। ব্রতের দিন তারা উপবাসী থাকে। তারপর রাত্রিবেলা চার প্রহরে শিবলিঙ্গকে দুধ, দই, ঘৃত, মধু ও গঙ্গাজল দিয়ে স্নান করানো হয়। তারপর বেলপাতা, নীলকন্ঠ ফুল, ধুতুরা, আকন্দ, অপরাজিতা প্রভৃতি ফুল দিয়ে পূজা করা হয়। আর  ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ এই মহামন্ত্র জপ করা হয় । সেদিন রাত্রি জাগরণ করা হয় ও শিবের ব্রতকথা, মন্ত্র আরাধণা করা হয়। ভারতবর্ষের বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গ তথা সমস্ত শিবমন্দিরে এই পূজা চলে, তান্ত্রিকেরাও এইদিন সিদ্ধিলাভের জন্য বিশেষ সাধনা করে। মহাশিবরাত্রি সাধারণত ইংরাজী মাসের ফেব্রুয়ারী বা মার্চ এ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

হিন্দু মহাপুরাণ তথা শিবমহাপুরাণ অনুসারে এইরাত্রেই শিব সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়ের মহা তান্ডব নৃত্য করেছিলেন । আবার এইরাত্রেই শিব ও পার্বতীর বিবাহ হয়েছিল । এর নিগুঢ় অর্থ হল শিব ও শক্তি তথা পুরুষ ও আদিশক্তি বা পরাপ্রকৃতির মিলন। এই মহাশিবরাত্রিতে শিব তার প্রতীক লিঙ্গ তথা শিবলিঙ্গ রূপে প্রকাশিত হয়ে জীবের পাপনাশ ও মুক্তির পথ দিয়েছিলেন।

শিব পূজার নিয়মঃ শিবপূজায় শিবলিঙ্গ স্নানার্থে প্রধাণত গঙ্গাজল বা গঙ্গাজল মিশ্রিত জল ব্যবহার করা হয় । আর বেলপাতা দেওয়া হয় তিনটি পাতাযুক্ত একটি যৌগিক পত্রকে । তবে বিশেষ লক্ষ্যণীয়, শিবের পূজার বেলপাতার প্রতিটি যৌগিক পত্রের বৃন্ত বা বোঁটা অবশ্যই ভেঙ্গে বাদ দিয়ে তবে সেই বেলপাতা অর্পণ করা উচিত।


#সংগৃহীত

শিবলিঙ্গের কেন পূজা করা হয়

শিবলিঙ্গের কেন পূজা করা হয়



শিব+লিঙ্গ=শিবলিঙ্গ।
মন্দিরগুলিতে সাধারণত শিবলিঙ্গে শিবের পূজা হয়। শিবলিঙ্গকে অনেক সময় যোনি-চিহ্ন সহ তৈরি করা হয়। যোনী হল মহাশক্তির প্রতীক। শিবলিঙ্গ ও যোনির সম্মিলিত রূপটিকে "নারী ও পুরুষের অবিচ্ছেদ্য ঐক্যসত্ত্বা এবং জীবনসৃষ্টির উৎস পরোক্ষ স্থান ও প্রত্যক্ষ কালের প্রতীক" হিসেবে দেখা হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে পাশ্চাত্য গবেষকরা লিঙ্গ ও যোনিকে নারী ও পুরুষের যৌনাঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে হিন্দুরা শিবলিঙ্গকে সৃষ্টির পিছনে নারী ও পুরুষ উভয়ের অবদানের কথা স্মরণ করে শিবলিঙ্গের পূজা করেন। একটি সাধারণ তত্ত্ব অনুযায়ী, শিবলিঙ্গ শিবের আদি-অন্তহীন সত্ত্বার প্রতীক এক আদি ও অন্তহীন স্তম্ভের রূপবিশেষ।